মহাকুম্ভ ২০২৫: যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে এক মর্মস্পর্শী পর্যালোচনা

ভারতের ঐতিহ্যবাহী মহাকুম্ভ মেলা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ। লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই মেলায় যোগ দেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে। কিন্তু অতীতে বহুবার দেখা গেছে যে, বিশাল ভিড়ের কারণে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মহাকুম্ভ ২০২৫: মর্মান্তিক দুর্ঘটনাসমূহ
১. পদদলিত হয়ে মৃত্যু
২৯ জানুয়ারি ২০২৫, মৌনী অমাবস্যার দিনে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। বিশদ জানতে দেখুন: The Wall
২. অগ্নিকাণ্ড
গীতা প্রেসের স্টলে আগুন লেগে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এটি মেলার অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। বিশদ জানতে দেখুন: ETV Bharat
ধর্মীয় উন্মাদনা ও কুসংস্কারের বিপদ
ধর্মীয় বিশ্বাস ও অন্ধভক্তির কারণে মানুষ যুক্তি-বিবেচনা ছাড়া এই ধরনের জমায়েতে যোগ দিচ্ছে। প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রতি বছর নতুন নতুন দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ এর থেকে শিক্ষা নেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা
এত বিশাল সংখ্যক মানুষের সমাগম নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য কঠিন হলেও, অতীতে একই রকম ভুল বারবার দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ:
১৯৫৪ সালের কুম্ভ মেলা
এলাহাবাদে কুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়ে ৮০০ জন প্রাণ হারান।
২০১৩ সালের কুম্ভ মেলা
২০১৩ সালে, এলাহাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে পদদলিত হয়ে ৩৬ জন নিহত হন।
যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ: প্রতিকার কী?
মহাকুম্ভ মেলা আসলে ধর্মীয় অনুভূতির চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থের অংশ হয়ে উঠেছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য প্রশাসনের উচিত:
- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
- ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
- দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শেষ কথা
ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস হতে পারে, কিন্তু যখন তা জনসাধারণের জীবনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা জরুরি। আমরা কি ধর্মীয় উন্মাদনার নামে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা দেখতে থাকব, নাকি যুক্তিবাদী চেতনার আলোকে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব?