শৈশবের হারানো দিনগুলো
শৈশবের মাঠভরা আনন্দের দিনগুলো
শৈশবের মাঠভরা আনন্দের দিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো মনে হয় আজ। কাদামাখা বিকেল, দৌড়ঝাঁপ, খেলার সঙ্গীদের সাথে হাসিঠাট্টা—এসবই ছিলো আমাদের ছোটবেলার অনন্য সম্পদ। এখন স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটে বন্দি হয়ে থাকা শিশুদের দেখে মন খারাপ হয়। কোথায় গেলো সেই দিনগুলো, যখন বিকেল মানেই ছিল মাঠে ছুটে যাওয়া?

হারিয়ে যাওয়া খেলার স্মৃতিচারণ
আমাদের সময় ছিল দারুণ সব খেলা। মার্বেল, গুলতি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, এক্কা-দোক্কা—এসব খেলায় আমরা কত যে সময় কাটিয়েছি! আমাদের পাড়ার মাঠে “ভিতর-বাহির” খেলতাম। খেলাটি ছিল এমন—একজন সামনে দাঁড়িয়ে বলতো “ভিতর” বা “বাহির”, আর সবাই লাফিয়ে জায়গা পরিবর্তন করত।

স্কুলের টিফিনের সময়কার মজার খেলা
স্কুলের টিফিনের সময় ছিল খেলার সেরা সুযোগ। বেঞ্চের নিচে মার্বেল খেলা, খেজুর বিচি দিয়ে ‘জোড় জোড়’ খেলা, কাগজের প্লেনে স্বপ্ন ভাসানো—এসবই ছিলো প্রতিদিনের অংশ।

উৎসবের ছুটির দিনে খেলার ধুম
দুর্গাপূজা, পহেলা বৈশাখ, ঈদ, কিংবা অন্য যে কোনো উৎসব এলেই খেলার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যেতো। সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে যেতাম, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ওড়, চোর-পুলিশ, এমনকি টায়ার গড়িয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা করতাম।

গ্রামীণ খেলাধুলার রোমাঞ্চ
গ্রামে বসবাসকারী অনেকের জন্য বিকেল মানেই ছিলো বাঁশবাগানের ধারে বা মাঠের মাঝে জমে ওঠা খেলাধুলা। লুকোচুরি, দাড়িয়াবান্ধা, কাবাডি, বা সাতচারা খেলায় মেতে থাকত সবাই।

বর্তমান সময়ের শিশুদের অবস্থা ও সমাধান
আজকের বাচ্চাদের আমরা অতিরিক্ত রক্ষণশীলভাবে বড় করছি। কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেই খেলার দিনগুলো সে বিষয়ে কিছু প্রস্তাব:
- অভিভাবকদের ভূমিকা: বাবা-মায়েরা যদি বাচ্চাদের বাইরে খেলার জন্য উৎসাহিত করেন, তাহলে তারা আবার মাঠের প্রতি আগ্রহী হবে।
- স্কুলের উদ্যোগ: স্কুলগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার সময় নির্ধারণ করা উচিত।
- পাড়া-মহল্লার উদ্যোগ: স্থানীয় কমিউনিটিগুলো যদি ছোটদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ করে ও খেলাধুলার প্রতিযোগিতা রাখে।
- প্রযুক্তির ব্যালেন্স: নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা গেলে শিশুরা ভারসাম্য বজায় রেখে খেলতে পারবে।
- পুরনো খেলাগুলো ফিরিয়ে আনা: দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কাছে পুরনো দিনের খেলার গল্প শোনানো যেতে পারে।
